ভোলায় আজান দিলেই দোকান বন্ধ রেখে মসজিদে চলে যান দোকানিরা
মুসলমানের ধর্মীয় পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় হলো নামাজ। মৃত্যুর পর বেহেশত যাওয়ার পথ সুগম করতে মুসলমানরা মসজিদে জামায়াতের সহিত নামাজ আদায় করে থাকেন।
ইসলামের প্রতিটি বিধান ও আমলের মাঝেই যৌক্তিকতা ও সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে। ইসলামে এমন কোনো আমল নেই যা মুসলমানের জন্য পালন করা কষ্টকর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা, ধনী-দরিদ্র সবার জন্যই ফরজ। তবে হজ এবং জাকাতের বিধান শুধু ধনী ব্যক্তিদের জন্য ফরজ করা হয়েছে।
শারীরিক অসুস্থতাসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফরজ রোজা ভঙ্গ করার হুকুম রয়েছে এবং পরে তা আদায় করে নেওয়া যায়। রোজা ভঙ্গের পর কাফ্ফারা আদায় করতে পারবেন এ বিধানও ইসলামে রয়েছে।
তবে নামাজের ক্ষেত্রে কাজা করার হুকুম শুধু বিশেষ ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়েছে এবং নামাজের কোনো কাফ্ফারা বা বদলা হয় না। যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে না পারেন; তিনি যেন বসে নামাজ আদায় করে নেন। যদি কারও বসে নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়ে পড়ে তারপরও তিনি যেন শুয়ে নামাজ আদায় করে নেন। এমনকি চোখের ইশারায় নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে।
দেহে জ্ঞান থাকা পর্যন্ত কোনো অবস্থায়ই কোনো ব্যক্তির জন্য নামাজ বাদ দেওয়ার বিধান নেই। ইসলাম সুস্থ ব্যক্তির জন্য যেমন নামাজের নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে ঠিক তেমনিভাবে অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের ব্যাপারেও কিছু নিয়ম-নীতি ঠিক করে দিয়েছে। ইসলামে নামাজ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল যা পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য ফরজ।
ভোলার বোরহানউদ্দিন বাজারে মসজিদে আজানের পর দোকান বন্ধ রেখে সকল মুসলমান ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী জামাতের সহিত নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন, বাজার ব্যবসায়ী, আলেম সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এমন উদ্যোগ গ্রহণে স্বাগত জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। এবং পুলিশের প্রশংসা করেন সকল শ্রেণির মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার ব্যবসায়ী, আলেম সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আজানের পর বোরহানউদ্দিন বাজারের মুসলমান ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে জামায়াতের সহিত নামাজ আদায় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার বিষয়ে ভোলা বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন ফকিরের সহযোগিতা চান। (ওসি) শাহীন ফকির স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলী আজম মুকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বড়মানিকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন হায়দার, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রাসেল আহমেদ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে নামাজের সময়ে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
তার এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকান বন্ধ রেখে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। দোকানে আসা ক্রেতারাও এখন মসজিদে গিয়ে নামাজে শরিক হন। তবে বাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
বাজারে এখন নামাজের সময় দোকান খোলা রেখে গেলেও দোকানের কোন মালামাল চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এমন উদ্যোগকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দু ব্যবসায়ীরাও স্বাগত জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন বাজারের সেলুন ব্যবসায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের যাদব চন্দ্র শীল জানান, মুসলমানদের নামাজের সময় দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আজানের পর আমাদের হিন্দুদের দোকান বন্ধ করার কোন ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
নূর সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ জানান, ব্যবসায়ী, আলেম সমাজ, ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এটি ভালো উদ্যোগ।
বোরহানউদ্দিন বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, বোরহানউদ্দিন বাজারে আজান হলে এখন দোকান বন্ধ রেখেই সবাই নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে চলে যাই। এই সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ী সকলে সাদরে গ্রহণ করেছেন।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন ফকির জানান, আজানের পর নামাজের জন্য কিছু সময় দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে বোরহানউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পৌরসভা কাউন্সিলর তার কাছে সহযোগিতা চাইতে আসেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল (এমপি), পৌরসভা মেয়র রফিকুল ইসলাম ও বাজারের ব্যবসায়ী, হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও আলেম সমাজের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আজানের পর নামাজের জন্য দোকান বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বোরহানউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ীসহ সকলের সমন্বয়ে এ ধরনের একটি সুন্দর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন বোরহানউদ্দিন বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।
0 coment rios: