ভোলায় বিএনপির চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ায় মিথ্যা মামলায় আটক করার পর ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর মুক্তি ও ওসি’র অপসারণের দাবি
এইচ এম হাছনাইন, ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় বিএনপির চাঁদা উত্তোলনে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগে, ইসলামী আন্দোলনের সদস্য আটকের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই কর্মীর মুক্তি এবং ওসি ও এসআই’র প্রত্যাহার দাবি করেছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ভোলা জেলা উত্তরের সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সদস্য সিএনজি চালক সিরাজুল ইসলামকে সম্পূর্ণ বর্বরভাবে আটক করে। সিরাজুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের সদস্য।
তারা আরো জানান, একদল চাঁদাবাজ ভেদুরিয়া ঘাটে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করে আসছে। ওই চাঁদাবাজদের চাঁদা উত্তোলনে বাঁধা দিয়ে আসছিল দীর্ঘ দিন পর্যন্ত। এর যের ধরে কিছুদিন আগে সিরাজকে চাঁদাবাজরা মারধর করেছিলেন। সর্বশেষ তাকে দমাতে না পেরে একটি মহল ওসি ও এসআইকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাতে ঘুমানোর পর ঘরের দরজা ভেঙ্গে সিরাজকে আটক করে ভেলুমিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কিবরিয়া। পরে তাকে ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তার কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। একদিন পরে জানানো হয় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। অথচ এ ধরনের কোন প্রমাণ পুলিশ তাদের (ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের) কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিরাজুল ইসলামকে কোন ধরনের হয়রানি ছাড়া সসম্মানে ছেড়ে দেয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন আন্দোলন বাংলাদেশ ও ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমনটাই জানিয়েছেন তারা। এ সময় বক্তারা এই ষড়যন্ত্রমূলক আটকের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ভোলা সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজ ও এসআই কিবরিয়ার অপসারণ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে ভোলা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজী, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজ বলেন, সিরাজের বিরুদ্ধে ৫ই আগস্ট এর পূর্বে চাঁদা উত্তোলন ও সিএনজি চালককে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা আছে। এর সাথে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। দরজা ভাঙ্গা অভিযোগ মিথ্যা। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মী ছাড়াও সিএনজি ড্রাইভারসহ ইসলামী আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


0 coment rios: